Message: Return type of CI_Session_files_driver::open($save_path, $name) should either be compatible with SessionHandlerInterface::open(string $path, string $name): bool, or the #[\ReturnTypeWillChange] attribute should be used to temporarily suppress the notice
Message: Return type of CI_Session_files_driver::close() should either be compatible with SessionHandlerInterface::close(): bool, or the #[\ReturnTypeWillChange] attribute should be used to temporarily suppress the notice
Message: Return type of CI_Session_files_driver::read($session_id) should either be compatible with SessionHandlerInterface::read(string $id): string|false, or the #[\ReturnTypeWillChange] attribute should be used to temporarily suppress the notice
Message: Return type of CI_Session_files_driver::write($session_id, $session_data) should either be compatible with SessionHandlerInterface::write(string $id, string $data): bool, or the #[\ReturnTypeWillChange] attribute should be used to temporarily suppress the notice
Message: Return type of CI_Session_files_driver::destroy($session_id) should either be compatible with SessionHandlerInterface::destroy(string $id): bool, or the #[\ReturnTypeWillChange] attribute should be used to temporarily suppress the notice
Message: Return type of CI_Session_files_driver::gc($maxlifetime) should either be compatible with SessionHandlerInterface::gc(int $max_lifetime): int|false, or the #[\ReturnTypeWillChange] attribute should be used to temporarily suppress the notice
ফিলিস্তিনের গাজা থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামাসের রকেট হামলা। ছবি: রয়টার্স
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে শনিবার ইসরায়েলের দিকে ২০ মিনিটে ৫ হাজারের বেশি রকেট ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২২ জন নিহত এবং ৫৪৫ জন আহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।
এ ঘটনার পরপরই গাজা উপত্যকায় পাল্টা বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল।
গাজা থেকে রকেট হামলা শুরুর পাঁচ ঘণ্টা পর জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, 'ইসরায়েলের জনগণ, আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি, কোনো অভিযান নয়, উত্তেজনা নয়, যুদ্ধ।'
তিনি বলেন, 'আজ সকালে হামাস ইসরায়েল ও তার নাগরিকদের বিরুদ্ধে অতর্কিত খুনে হামলা চালিয়েছে। আমরা ভোর থেকেই এই পরিস্থিতির মধ্যে আছি।'
'আমি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানদের ডেকেছিলাম, প্রথমে তাদের নির্দেশ দিয়েছি যে, অনুপ্রবেশকারী সন্ত্রাসীদের বসতিগুলো খালি করে দিতে। এখন থেকেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে', বলেন নেতানিয়াহু।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'একই সময়ে আমি রিজার্ভ সেনাদের মোতায়েন এবং প্রতিশোধমূলক যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছিলাম, যা সম্পর্কে শত্রুরা কোনো ধারণা না পেতে পারে।'
'শত্রুদের এমন মূল্য দিতে হবে, যে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। ইতোমধ্যে আমি ইসরায়েলের সব নাগরিককে সেনাবাহিনী এবং হোম কমান্ডের নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি', বলেন নেতানিয়াহু।
তিনি আরও বলেন, 'আমরা একটি যুদ্ধে আছে এবং অবশ্যই জিতব।'
ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ ১৪ দিনে গড়িয়েছে। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ থামাতে বিশ্বজুড়ে দাবি উঠলেও আমলে নিচ্ছে না কোনো পক্ষই। এমন পরিস্থিতিতে ২৩ লাখ মানুষের এই অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে আগামীকাল শনিবার মিসরের কায়রোতে বৈঠকে বসবেন বিশ্বনেতারা। এরই মধ্যে আট দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার (২০ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
আটটি দেশ হলো বাহরাইন, সাইপ্রাস, মিসর, জার্মানি, ইতালি, জাপান, কুয়েত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এ ছাড়া ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল, ইইউর শীর্ষ কূটনীতিক জোসেপ বোরেল এবং ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাথরিন কোলোনা এই শান্তি সম্মেলনে যোগ দেবেন। পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যেন এই যুদ্ধ ছড়িয়ে না পড়ে সে লক্ষ্যে গত সপ্তাহে কায়রো, বৈরুত ও ইসরায়েল সফর করেছেন ক্যাথরিন কোলোনা।
গাজা সংকট মোকাবিলায় মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল-ফাত্তাহ আল-সিসির আহ্বানে এই শান্তি সম্মেলন হচ্ছে। মিসরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শউকরি বলেছেন, গাজার পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ এই সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে তা প্রতিফলিত হয়েছে।
এর আগে একই দিন রাফা ক্রসিং দিয়ে অবরুদ্ধ গাজায় মানবিক সহায়তা প্রদানে একটি চুক্তিতে পৌঁছান মিসরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। চুক্তির আওতায় মানবিক সহায়তা নিয়ে গাজায় ২০টি ট্রাক প্রবেশ করবে।
গত ৭ অক্টোবর গাজা থেকে ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলার জবাবে সেখান টানা বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের ১৪ দিনের বোমাবর্ষণে এখন পর্যন্ত গাজায় চার হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১২ হাজরের বেশি আহত হয়েছে। এ ছাড়া পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে।
ফিলিস্তিনির স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস গত ৫ অক্টোবর ইসরায়েলে হাজার হাজার রকেট হামলা চালায়। জবাবে গত ১৪ দিন ধরে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাকে লক্ষ্য করে বিরতিহীনভাবে বোমা ছুড়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। এতে গাজায় ৪ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২০ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে মৃত্যুর নতুন সংখ্যা জানিয়েছেন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কিদরা। খবর আল জাজিরার।
মুখপাত্র আশরাফ জানিয়েছেন, গাজায় ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১৩৭ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে শিশুই হলো ১ হাজার ৬৬১ জন। এছাড়া ইসরায়েলের হামলায় ১৩ হাজার ২৬০ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে গাজায় ৪ হাজার মানুষ নিখোঁজ আছেন।
ইসরায়েলের বোমা হামলা থেকে মসজিদ, গির্জা, বাড়ি-ঘর কোনো কিছুই বাদ পড়ছেনা। গত ১৭ অক্টোবর গাজায় উপত্যকার আল-আহলি আল-আরাবি হাসপাতালে বোমা হামলায় অন্তত ৫০০ জন নিহত হয়। বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে বোমা হামলায় ১৮ নিহত হয়। একই দিন অর্থোডক্স চার্চে বোমা হামলা চালায় ইসরাইল। এতে অন্তত ৮ জন নিহত হয়।
এক ভয়ানক রক্তক্ষয়ী দিনের সাক্ষী হলো ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। চলমান ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার রাতে গাজার আল-আহলি আল-আরবি হাসপাতাল সহিংসতার শিকার হয়। এতে অন্তত ৫০০ ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে।
ঘটনার পর গাজা-ভিত্তিক ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, হাসপাতালটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। ঘটনার জন্য তারা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী আরেক সশস্ত্র সংগঠন প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদকে (পিআইজে) দায়ী করেছে।
ইসরায়েল বলছে, গোয়েন্দা তথ্যমতে, পিআইজের ছোড়া রকেট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে হাসপাতালটিতে আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া হাসপাতালটিতে হামলায় প্রাণহানির যে সংখ্যার কথা বলা হচ্ছে, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল।
পিআইজের মুখপাত্র দাউদ শেহাব বলেছেন, হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের দাবি মিথ্যা, বানোয়াট। এসব কথা বলে দখলদার ইসরায়েল বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে যে ভয়ংকর অপরাধ, যে গণহত্যা চালাচ্ছে, তা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
হাসপাতালে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেছেন আরব নেতারা। ইসরায়েল সফর শেষে জর্ডানে যাওয়ার কথা ছিল বাইডেনের। সেখানে আরব নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক করার কথা ছিল।
হাসপাতালে হামলার ঘটনাকে ‘বিস্ফোরণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বাইডেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এ ঘটনায় তিনি ক্ষুব্ধ, গভীরভাবে মর্মাহত।
হাসপাতালে হামলার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আবদুল্লাহিয়ান ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছেন, সময় শেষ হয়ে গেছে! ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, গাজায় হাসপাতালে হামলা চালিয়ে শত শত বেসামরিক নাগরিককে হত্যার ঘটনায় তিনি হতভম্ব। হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে তিনি হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্য বলেছে, হাসপাতালে কী ঘটেছে, তা খুঁজে বের করতে তারা মিত্রদের সঙ্গে কাজ করবে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লিভারলি তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, গাজার নিরীহ বেসামরিক লোকজনকে রক্ষায় যুক্তরাজ্য কাজ করবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেছেন, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সব পক্ষের সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। ডব্লিউএইচওপ্রধান তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন। প্রতিনিয়ত মানুষ মারা যাচ্ছে উল্লেখ করে তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, জীবনরক্ষাকারী সামগ্রীর সরবরাহ শুরুর জন্য তাদের অবিলম্বে গাজা উপত্যকায় প্রবেশাধিকার দরকার।
হাসপাতালে হামলার প্রতিবাদে দেশে দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। হাজারো বিক্ষোভকারী এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের নেতারা এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
আমাদের সম্পর্ক বাংলাদেশের সঙ্গে, কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে নয় : ভারত
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেছেন, আমাদের সম্পর্ক বাংলাদেশের সঙ্গে, সেদেশের জনগণের সঙ্গে। কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে নয়।
সোমবার দিল্লিতে সফররত বাংলাদেশের সাংবাদিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। এ মতবিনিময় সভায় যোগ দেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও। সেখানে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন তারা।
বাংলাদেশে বিরোধী দলগুলোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির প্রসঙ্গে বাগচী বলেন, ভারতের সংবিধানে এমন কিছু নেই, ভারতে এমন কিছু হয় না। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধানে যা বলা আছে, হয়তো সেটাই হবে। তবে, বাংলাদেশের বিষয়ে সেদেশের জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা চাই, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক। এ ছাড়া আমাদের সম্পর্ক বাংলাদেশের সঙ্গে, সেদেশের জনগণের সঙ্গে। কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে নয়।
ব্রিকসে বাংলাদেশের সদস্যপদ না পাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ভারতের বিরোধিতা ছিল না। এসব তথ্য যারা ছড়ায় তারা ব্রিকসের সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া জানে না। ভারত সুযোগ পেলেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চায়। তারই অংশ হিসেবে নয়াদিল্লিতে জি-২০ সম্মেলনে বাংলাদেশকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
ভারতের এক যুগ্ম সচিব স্মিতা পান্থ বলেন, গত সাত-আট বছর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রায় এগোচ্ছে। হয়তো কখনো একটু ধীর কখনো দ্রুত গতিতে এগিয়েছে কিন্তু এগিয়েছে। উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪৬টি প্রকল্প চলমান। এ ছাড়া ৬৪টি ক্ষুদ্র বিনিয়োগও আছে।
স্মিতা পান্ত আরও বলেন, গত বছর ভারত ১৬ লাখ বাংলাদেশির ভিসা ইস্যু করেছে। সম্প্রতি ভিসা নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তা সাময়িক। শিগগিরই এটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিছু প্রক্রিয়াগত কারণে ভিসার ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আপনারা ভ্রমণ করলে ভারতই লাভবান হয়। সুতরাং এ সমস্যা কেটে যাবে।
ইসরায়েলের হামলায় গাজার অন্তত ২০ পরিবারের সবাই নিহত, নিশ্চিহ্ন অনেক এলাকা
ইসরায়েলি বোমায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বাড়িঘর। হতাহত হয়েছেন বহু স্বজন। উদ্বেগ আর আতঙ্ককে সঙ্গী করে এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছেন ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুরা। কোথায় যাবেন ঠিকানা জানা নেই। গতকাল গাজা সিটিতেছবি: এএফপি
ইসরায়েলের লাগাতার বিমান হামলায় ফিলিস্তিনিদের ক্রমবর্ধমান হতাহতের সংখ্যার মধ্যে ২০ খুবই ছোট।
গাজার ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবন্ধ সমাজ থেকে ২০টি পরিবারকে মুছে ফেলা হয়েছে, যেখানে সবাই সবাইকে চিনতেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে।
ফিলিস্তিন বলছে, ২০টি পরিবারের সব জীবিত সদস্যের নাম সরকারি নিবন্ধন খাতা থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। ইসরায়েলের হামলায় তাঁদের প্রাণ গেছে।
সাত দিন ধরে ইসরায়েলের লাগাতার বিমান হামলায় কেঁপে উঠছে গাজা উপত্যকা। গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েল বলেছে, তারা গাজায় ছয় হাজার বোমা ফেলেছে। অর্থাৎ, প্রতিদিন এক হাজার বোমা ফেলা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ইসরায়েলি হামলায় গাজার অন্তত ১ হাজার ৭৯৯ জনের প্রাণ গেছে, যাঁদের মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৩৮৮ জন।
গাজার কিছু পাড়া–মহল্লার পুরোটাই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, ৭ অক্টোবর হামাসের সশস্ত্র শাখা ইসরায়েলে যে নজিরবিহীন হামলা হামলা চালিয়েছে, তার জবাবে তারা বোমা হামলা করছে।
হামাসের হামলায় ইসরায়েলের মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০০–তে, আহত হয়েছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ।
ইসরায়েলের ঘোষিত লক্ষ্য হামাসকে নির্মূল করা এবং এর অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু ঘনবসতিপূর্ণ গাজা উপত্যকায় আটকে থাকা বেসামরিক নাগরিকেরাই মূলত ইসরায়েলের বোমা হামলার শিকার হচ্ছেন।
জাবালিয়া আশ্রয়শিবিরে চালানো হামলায় শিহাব পরিবারের ৩১ সদস্যের সবাই নিহত হয়েছেন। এই পরিবার যে বাসভবনে ছিল, সেখানে লুকিয়েছিলেন অন্য পরিবারের সদস্যরাও। তাঁরা ভেবেছিলেন, এটি নিরাপদ জায়গা।
জাবালিয়ায় ইসরায়েলের হামলায় মোট ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। এই ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে ছোটটির বয়স দুই মাস, একটি দুধের শিশু।
দেইর আল-বালাহতে আজাইজ পরিবারের অন্তত ১৫ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের মরদেহ পাওয়া গেছে একাধিক খণ্ডে।
গাজা শহরের হাসান আল-বাতনিজি তাঁর পুরো পরিবারকে হারিয়েছেন। এক হামলায় সবার প্রাণ গেছে।
আসমাহান আল-বারবারি নিরাপদ ভেবে তাঁর গাজা শহরের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফিরে এসেছিলেন। পরে সেখানে বোমা হামলা চালানো হয়।
বাড়িতে বোমাবর্ষণ করা হবে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছ থেকে এমন খুদে বার্তা পাওয়ার পর তাঁরা সবাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন বলে জানান আসমাহান আল-বারবারি। তিনি বলেন, ‘জরুরিভাবে ঘর ছাড়ার জন্য আমাদের সবার ব্যাগ সব সময় দরজার কাছেই থাকে, সেগুলো হাতে নিলাম এবং দৌড় দিলাম।’
আসমাহান আল–বারবারি বলেন, ‘(সতর্কবার্তা পাওয়ার পর) বাড়ি ছেড়ে সাধারণত যত সময় দূরে থাকার কথা, সেই সময় দূরে ছিলাম। পরে বিপদ শেষ হয়ে গেছে ভেবে আমরা বাড়িতে ফিরে যাই।’
গভীর রাতে যখন পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন আসমাহান আল-বারবারির বাড়িতে বোমা হামলা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা অন্ধকারে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিলাম। পরিবারের অন্য সদস্যরা বেঁচে আছে কি না, তা জানতে আমি তাদের নাম ধরে চিৎকার করছিলাম।’
ইসরায়েলি বোমায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বাড়িঘর। হতাহত হয়েছেন বহু স্বজন। উদ্বেগ আর আতঙ্ককে সঙ্গী করে এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছেন ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুরা। কোথায় যাবেন ঠিকানা জানা নেই। গতকাল গাজা সিটিতে
ইসরায়েলি বোমায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বাড়িঘর। হতাহত হয়েছেন বহু স্বজন। উদ্বেগ আর আতঙ্ককে সঙ্গী করে এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছেন ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুরা। কোথায় যাবেন ঠিকানা জানা নেই। গতকাল গাজা সিটিতেছবি: এএফপি
আসমাহান আল-বারবারি বলেন, ‘আজ আমি মৃত্যু দেখলাম। এটা আমার জীবন নেয়নি, নিয়েছে আমার পরিবারের সদস্যদের। যদি আমিও মারা যেতাম...বাকি জীবন আমি তাদের জন্য শোক করে যাব।’
আসমাহান আল-বারবারির প্রতিবেশী মাহমুদ আল-শান্তি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘বয়স্ক নারী, শিশুসহ আমাদের বাড়িতে প্রায় ৩০ জন ছিলাম। অনেক পরিবারই ভয়াবহ হামলা থেকে বাঁচতে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে পালিয়ে গিয়েছিল।’
মাহমুদ আল-শান্তি, হাসান আল-বাতনাজি ও আসমাহান আল-বারবারি—সবাই আল-শিফা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁরা আশা করছেন, তাঁরা নিরাপদ জায়গা খুঁজে পাবেন।
আল-শিফা গাজা শহরের অনেক বাসিন্দার জন্য স্বস্তিদায়ক জায়গা হয়ে উঠেছে। কেননা সেখানে কিছু না কিছু খবরাখবর পাওয়া যাচ্ছে, ইন্টারনেট সংযোগ আছে, বিদ্যুৎও আছে।
তবে চিকিত্সার জন্য প্রত্যেককেই সংগ্রাম করতে হচ্ছে। গাজার ওপর ১৬ বছর ধরে চলা অবরোধের মাত্রা আরও বাড়িয়েছে ইসরায়েল। খাদ্য, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গাজায় ঢুকতে দিচ্ছে না। ‘সম্পূর্ণ অবরোধ’ মানে সবচেয়ে মৌলিক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের তীব্র সংকট।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার ওপর লিফলেট ফেলেছে। তাতে ছিল উত্তর গাজা ও গাজা শহর ছাড়ার নির্দেশ। লিফলেটে গাজাবাসীকে দক্ষিণের দিকে সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইসরায়েল যে অঞ্চলটিকে ফাঁকা করতে বলেছে, সেখানে ১০ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। ইসরায়েলের লিফলেট ফেলার পর হাজার হাজার মানুষ দক্ষিণের দিকে ছোটেন, তবে অন্য অনেকেই তাঁদের বাড়িঘর ছাড়তে পারেননি, কেননা তাঁদের অনেকেই পরিবহনের ব্যবস্থা করতে পারেননি। অনেকেই বাড়িতে থাকাই বেছে নিয়েছেন অথবা অনেকেই ইসরায়েলের দাবি উপেক্ষা করার জন্য হামাসের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এলাকা ছাড়েননি।
আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলের হামলার জেরে হাসপাতালের করিডরগুলো ভরে গেছে। আহত ব্যক্তিদের অনেকে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে পড়ে আছেন। অস্ত্রোপচারকক্ষ ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সংকট প্রবল।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানের জন্য যে আলোচনা হচ্ছে, তার বেশির ভাগটাই জুড়ে রয়েছে ফিলিস্তিনিদের গাজা ছেড়ে যাওয়ার জন্য মানবিক করিডরের ধারণাকে ঘিরে। তবে মিসরের সঙ্গে স্থলপথে সীমান্ত ক্রসিং খোলার পরামর্শ কায়রো প্রত্যাখ্যান করেছে। যদিও সেটি মানবিক সহায়তার জন্য খুলতে সম্মত হয়েছে দেশটি।
তবে গাজার ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, এখন সবচেয়ে জরুরি হলো বোমাবর্ষণ বন্ধ করা এবং আরও মৃত্যু ও মানুষের দুর্ভোগ ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মুনির আল-বারশ বলেন, ইসরায়েলি বিমান হামলায় ‘পদ্ধতিগতভাবে আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা অপরাধ’। এসব হামলায় হতাহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আল–বারশ বলেন, বাসাবাড়ি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, অ্যাম্বুলেন্সসহ সবকিছু লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হচ্ছে।
ইসরায়েল বলছে, তারা গাজায় হামাস ও অন্য প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা অব্যাহত রাখবে।
গাজা সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি সেনাদের টহল- ফাইল ছবি: এএফপি
টানা এক সপ্তাহ ধরে বিমান হামলার পর এখন ফিলিস্তিনের বিভিন্ন জায়গায় স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরের দুটি শরণার্থী শিবিরে এসব অভিযান চালানো হয়েছে।
আল–জাজিরা আরবির পক্ষ থেকে এক এক্স বার্তায় (টুইটার) বলা হয়েছে, আজ শনিবার জেরুজালেমের পাশে কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে প্রাথমিকভাবে এ অভিযানে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে এদিনই ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের জেনিন ও জেরিচোতে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের খবর পাওয়া যায়। এসব অভিযানে দুজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনের উত্তর গাজা (গাজা সিটি) খালি করতে বলা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেসামরিক বাসিন্দাদের গাজার দক্ষিণাঞ্চলে চলে যেতে সময় বেঁধে দেয় ইসরায়েল। এর পর থেকে উত্তর গাজা ছেড়ে হাজার দশেক মানুষ পালিয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
যদিও গাজা খালি করার এ আদেশ প্রত্যাহার করে নিতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সংস্থাটি বলছে, এটা অবাস্তব আদেশ।
এর মধ্যে গাজা থেকে পালানোর সময় বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। হামাস জানিয়েছে, এতে অন্তত ৭০ জনের প্রাণ গেছে। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায়। জবাবে ওই দিনই পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এর পর থেকে গাজায় টানা বিমান হামলা চালানো হচ্ছে।
হামাসের হামলায় ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০০। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৯০০ মানুষ। আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৩৮৮ জন।
জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ফিলিস্তিনি।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্রগোষ্ঠী হামাসের সাথে ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের ষষ্ঠদিনে উভয়পক্ষে হতাহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আর হামাসের হামলায় ইসরায়েলিদের প্রাণহানিও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানির সংখ্যা এক হাজার ৪১৭ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৬ হাজার ২০০ জনের বেশি।
এদিকে, গত শনিবার ভোরের দিকে ইসরায়েলে হামাসের হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১ হাজার ৩০০ ইসরায়েলি নিহত ও আরও ৩ হাজার ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত আছে। বৃহস্পতিবার গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে বিভিন্ন ধরনের লিফলেট ফেলা হয়েছে। এতে গাজার বাসিন্দাদের অবিলম্বে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা গাজা উপত্যকায় নজিরবিহীন মানবিক সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। সেখানকার বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘মানবিক করিডোর’ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
সোমবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী গাজা উপত্যকায় সর্বাত্মক অবরোধ ঘোষণা করে। ইসরায়েলের এই ঘোষণার পর গাজায় খাদ্য, পানি, ওষুধ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় এই উপত্যকার একমাত্র বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও বুধবার বন্ধ হয়ে গেছে। অন্ধকারে ডুবেছে পুরো উপত্যকা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন হামাসের সাথে যুদ্ধে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও গাজা উপত্যকায় খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও ওষুধ সরবরাহের ওপর অবরোধ আরোপের বিরোধিতা করেছে। সংস্থাটি বলেছে, গাজা উপত্যকায় সর্বাত্মক অবরোধ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
আন্তর্জাতিক সাহায্যকারী সংস্থা রেডক্রস বলেছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ায়— হাসপাতালগুলোতে অনেক মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যেতে পারেন এবং হাসপাতালগুলো মর্গে পরিণত হতে পারে।
সংস্থাটি বলেছে, গাজার একমাত্র বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন যেসব জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল রাখা হয়েছে সেগুলো আর কয়েক ঘণ্টা পর বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইসরায়েল বলেছে, হামাস যেসব ইসরায়েলিকে বন্দি করেছে; তাদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত তারা বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় সচল করবে না।
কিন্তু বিদ্যুতের অভাবে হাসপাতালগুলোতে বিনা চিকিৎসায় মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা প্রকাশ করে রেডক্রসের আঞ্চলিক পরিচালক ফাবরিজিও কার্বোনি বলেছেন, ‘গাজা যেহেতু বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, হাসপাতালগুলোও বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। এর মাধ্যমে ইনকিউবেটরে থাকা নবজাতক এবং অক্সিজেনে থাকা বৃদ্ধরা ঝুঁকিতে পড়ে গেছেন।কিডনির ডায়ালাইসিস বন্ধ হয়ে গেছে, এক্সরে করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ ছাড়া হাসপাতালগুলো মর্গে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।’
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ষষ্ঠ দিনের মতো মুহুর্মুহু বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। সময় যত গড়াচ্ছে ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের সংখ্যাও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এরই মধ্যে গাজায় নিহতের সংখ্যা সাড়ে তেরশ ছাড়িয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা এক হাজার ৩৫৪ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৬ হাজার ৪৯ জন।
অন্যদিকে ইসরায়েলে হামাসের নজিরবিহীন হামলায় প্রায় এক হাজার ৩০০ ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও কয়েক হাজার মানুষ।
গত শনিবার ইসরায়েলে হঠাৎ হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। হামলার প্রথম কয়েক মিনিটে ইসরায়েলের দিকে হাজার হাজার রকেট ছুড়েছে হামাস। হামাসের এই হামলার জবাবে আজ ষষ্ঠ দিনের মতো গাজায় পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা।
ইসরায়েলের ধ্বংস চায় হামাস: বিঙ্কেন, আইএসের মতো হামাসকেও ধ্বংস করা হবে: নেতানিয়াহু
তেল আবিবে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, হামাসের উদ্দেশ্য একটাই- ইসরাইলকে ধ্বংস করা এবং ইহুদিদের হত্যা করা।
বৃহস্পতিবার তেল আবিবে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
ব্লিঙ্কেন বলেন, 'যারা শান্তি ও ন্যায়বিচার চান, তাদের অবশ্যই হামাসের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানো উচিত।'
তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, প্রতিটি জাতিকে বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
অপরদিকে সংবাদ সম্মেলনে ব্লিঙ্কেনের পাশে দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহু বলেছেন, 'হামাস হলো আইএস। যেভাবে আইএসকে ধ্বংস করা হয়েছিল, হামাসকেও সেভাবেই ধ্বংস করা হবে।'
তিনি বলেন, 'হামাসকে প্রতিটি জাতির দ্রুত প্রত্যাখ্যান করা উচিত। তাদের কোনো নেতার সঙ্গে সাক্ষাত, কোনো দেশে তাদের আশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। যারা এগুলো করবে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত।'
আগামী শুক্রবারকে 'ফাইড্রে অব আল-আকসা' হিসেবে চিহ্নিত করা হবে
আরব ও মুসলিম বিশ্বকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানানো আহ্বান হামাসের
ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে আরব ও মুসলিম বিশ্বকে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি জানানোর আহ্বান জানিয়েছে হামাস।
আজ মঙ্গলবার আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনিদের প্রতি আরব ও মুসলিম বিশ্বকে 'সাধারণ সংহতি' জানানোর আহ্বান জানিয়ে একটি ইভেন্ট খুলেছে হামাস।
এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, আগামী শুক্রবারকে 'ফাইড্রে অব আল-আকসা' হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। 'ইসরায়েলি দখলদারিত্বের প্রকাশ্য যুদ্ধের মুখে' ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে এই ইভেন্টটি খোলা হয়েছে।
বিবৃতিতে অধিকৃত পশ্চিম তীরের তরুণ ফিলিস্তিনিদেরও ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার আহ্বান জানিয়েছে হামাস।
এতে আরও বলা হয়, শুক্রবার ইসরায়েলে বসবাসরত ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে জড়ো হওয়া উচিত।
ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে হামাস। সোমবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন হামাসের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও পলিটিক্যাল ব্যুরোর ডেপুটি চেয়ারম্যান মুসা আবু মারজুক। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য অর্জন হয়েছে।’
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ধরনের আলোচনা জন্য হামাস প্রস্তুত। সব ধরনের রাজনৈতিক সংলাপের জন্যই তারা প্রস্তুত রয়েছে।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের চতুর্থ দিন আজ। গত শনিবার ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায় ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস। হামাসের অতর্কিত হামলায় ইসরায়েল পাল্টা হামলা চালায়। এরপর থেকে লড়াই চলছেই। পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় পক্ষের মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে। এর আগে গাজায় খাদ্য, জ্বালানি এবং অন্যান্য রসদ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল।
গাজায় চলছে বিমান হামলা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি ইসরায়েলের
ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলার তিনদিন পর গাজা সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি করেছে ইসরায়েল। গাজায় এখনও চলছে তীব্র বিমান হামলা।
ইসরায়েল বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালাতে থাকলে হামাস জিম্মি ইসরায়েলিদের হত্যার হুমকি দেওয়ার পরও বিমান হামলা বন্ধ হয়নি। প্রচণ্ড শক্তিতে হামাসের ওপর হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ইসরায়েল।
গতরাতে গাজার ২০০ টি নিশানায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গত ২০ বছরের মধ্যে গাজায় এমন ভয়াবহ বোমা হামলা দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন বিবিসি’র এক সাংবাদিক।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী গাজা সীমান্তের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি করেছে। তারা বলেছে, সোমবার রাত থেকে কেউ (হামাস সদস্য) গাজা থেকে ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করেনি।
তবে তিনদিনের লড়াইয়ে গাজা উপত্যকার আশপাশে প্রায় ১ হাজার ৫০০ হামাস যোদ্ধার লাশ পাওয়া গেছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী।
গত শনিবার থেকে চলা ইসরায়েলি হামলায় গাজার অন্তত ৭০০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। গাজা উপত্যাকায় সোমবার ইসরায়েলের সর্বাত্মক অবরোধ আরোপের পর হামলা আরও বেড়েছে। এতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা।
গাজায় ‘সর্বাত্মক’ অবরোধ ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। ফলে বিদ্যুৎ, পানি, খাবার এবং জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। সোমবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইওয়াভ গ্যালান্ট এ অবরোধ ঘোষণা করেন। খবর: আল-জাজিরা
ইওয়াভ গ্যালান্ট বলেন, ‘গাজা উপত্যকায় সম্পূর্ণ অবরোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, খাবার, গ্যাসসহ সবকিছুই বন্ধ থাকবে।’
এ দিকে ইসরায়েলের প্রধান সামরিক মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, সীমান্তবর্তী সম্প্রদায়ের ‘নিয়ন্ত্রণ’ তাদের হাতেই রয়েছে। হামাসের আর কোনো সদস্য যাতে সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করতে না পারে তা ঠেকাতে ট্যাংক ও ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে।
গত শনিবার সকালে গাজা থেকে ইসরায়েলে হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। কয়েক হাজার রকেট হামলা চালানোর পাশাপাশি ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালান হামাস সদস্যরা। তাদের ওই হামলায় ইসরায়েলের সাত শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। জবাবে গাজায় বিমান থেকে বোমা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত ৪৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৭৫১ মানুষ।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা বলছে, চলমান সহিংসতায় গাজায় এক লাখ ২৩ হাজারের বেশি বাসিন্দা ইতিমধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মাঝেই পুরো উপত্যকায় বৃষ্টির মতো বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করলো ইসরায়েল
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করলো ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
রোববার কাতারভিত্তিক আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে আরও বলা হয়েছে, গাজা থেকে সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে ইসরায়েলের ওপর এ যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে ফিলিস্তিনের পাশাপাশি ইসরায়েলেও নিহতের সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬০০ ছাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্য সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর সদস্যও রয়েছে।
ইসরায়েলে হামাসের হামলার খবরে রাজধানী রামাল্লাহ্সহ জেরিকো, কালকিলিয়া ও হেবরনে উল্লাস করতে নামেন হাজারও ফিলিস্তিনি। পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় চালানো সামরিক আগ্রাসনেরও তীব্র নিন্দা জানান তারা। এর প্রতিবাদে আবর্জনার বাক্স এবং গাড়ির টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয় ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিরা।
এসময় ইসরায়েলি তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালালে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে ইহুদি সেনাবহর। ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে ছোড়া হয় টিয়ারগ্যাসও। পরে স্বেচ্ছাসেবীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের সরিয়ে নেন।
এদিকে, শনিবার চালানো হামলায় এখন পর্যন্ত শতাধিক ইসরায়েলিকে জিম্মি করেছে হামাস। যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় ইসরায়েলি দূতাবাস জানিয়েছে এ তথ্য। হামাসের দাবি, জিম্মি করা ইসরায়েলিদের তালিকায় রয়েছেন শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাও। যুদ্ধবন্দিদের গাজা উপত্যকার গোপন স্থানে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সশস্ত্র সংগঠনটি। এ পরিস্থিতিতে সামরিক আগ্রাসন চালানোর আগে নেতানিয়াহু প্রশাসনকে কয়েকবার ভাবতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
হামাসের আচমকা হামলার জবাবে গাজা উপত্যকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ১৬০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও সহস্রাধিক। স্থানীয় মেডিকেল সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
এদিকে, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের হামলায় ইসরায়েলে মারা গেছেন অন্তত ৪০ জন। আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ জনে। ইসরায়েলি সরকার হতাহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান শুরু করেছে ফিলিস্তিনপন্থি স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাস। গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলে প্রায় ৫ হাজার রকেট হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনার জবাবে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। খবর আলজাজিরার।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের প্রতি দেওয়া এক বার্তায় বলেন, আমরা এখন যুদ্ধাবস্থায় আছি। তিনি আরও বলেন, আমরা জিতব। আমাদের শত্রুদের এর জন্য কঠিন মূল্য দিতে হবে। এ সময় তিনি ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা মানার আহ্বান জানান। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের এ হামলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান। পরিস্থিতির আলোকে তিনি পাল্টা অভিযানের পরিকল্পনা নিচ্ছেন। এ ঘটনার দায় ও পরিণতি হামাসকে ভোগ করতে হবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেছেন, ‘ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে হামাস ‘গুরুতর’ ভুল করেছে। আইডিএফ সৈন্যরা প্রতিটি অবস্থানে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।’
ইসরায়েলের স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মীরা জানিয়েছেন, হামাসের এ হামলায় অন্তত এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। এএফপি জানিয়েছে, শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বিভিন্ন স্থানে এ হামলা চালানো হয়েছে। এ হামলা আধা ঘণ্টা চলমান ছিল।
হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-ক্বাসাম ব্রিগেডের নেতা মোহাম্মদ দায়েফ সংবাদমাধ্যমে এ সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ফিলিস্তিনিদের সব জায়গায় যুদ্ধের আহ্বান জানান। এ অভিযানকে ‘অপারেশন আল-আকসা স্টর্ম’ বলে ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই যথেষ্ট হয়েছে। পৃথিবীতে দখলদারদের বিরুদ্ধে বিশাল যুদ্ধের দিন আজ। এ সময় সামরিক অভিযান রকেট হামলার সংখ্যা ৫ হাজারের কাছাকাছি বলেও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা ইসরায়েলি সামরিক বাহন জব্দ করে তা গাজার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও প্রায় ৪০ জনের মতো ইসরায়েলি সেনাসদস্যকেও গ্রেপ্তার করেছে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা। এই অভিযানে হামাসের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনের আরেক স্বাধীনতাকামী সংগঠন ইসলামিক জিহাদ।
ইসরায়েলি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আল-ক্বাসাম ব্রিগেডের নিক্ষেপ করা রকেট দেশটির রাজধানী তেল আবিব পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া জানিয়েছে, শনিবার ভোররাতে হামলা শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর হামাসের যোদ্ধারা দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করতে শুরু করে। এমন ঘটনা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীও জানিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে বেশ কয়েকজন ‘সন্ত্রাসী’ তাদের দেশে ঢুকে পড়েছেন।
ইসরায়েলের হারেৎজ সংবাদপত্রের তেল আবিব প্রতিনিধি উদি মুসকাফ বলেন, অধিকাংশ ইসরায়েলি কেবল হামাসের রকেটকে ভয় করছেন না, ইসরায়েলি বসতিতে হামাস যোদ্ধাদের ঢুকে পড়াও তাদের শঙ্কিত করে তুলেছে।